Tuesday, January 26, 2010

what an idea sirji!

হোয়াট অ্যান আইডিয়া সারজী!

ইন্দ্রনীল দত্ত
Jocasta: What is its nature? What so hard on exiles?
Polyneices: One thing is worst, a man cannot speak out.
Jocasta: But this is slavery, not to speak one’s thought.
Plyneices: One must endure the unwisdom of one’s masters
-Euripides, The Phoenician Women.

সাল ১৯৯১। কান চলচ্চিত্র উৎসবে সবাইকে চমকে দিয়ে যখন ইথান এবং জোয়েল কোয়েন তুলে নিলেন পাম ডি’ওর সম্মান, তাক লেগে গেছিলো বিশেষজ্ঞমহলেরও। ছবির নাম ‘বার্টন ফিঙ্ক’। ১৯৪০’র দশকে হলিউডের এক মানুষের কাহিনী যিনি কীনা নাটক লিখে যেতেন নিজের মনে, তা সে অভিনীত হোক ছাই না হোক। নিজস্ব কল্পনা এবং ভাবনার জগতে থরে থরে সব ভাবনা এবং তা বেরিয়ে আসতো নাটকের আকারে। কথায় বলে, সবদিন সমান যায় না। এমন একেকটা দিনও আসে যখন সব ভাবনাগুলো পেয়ে যায় বিশেষ মাত্রা। তেমনই একটা দিনে বার্টনের বরাতও গেলো খুলে। প্রথম নাটক মঞ্চস্থ হতেই চারপাশে একেবারে হৈ হৈ কাণ্ড। এমন নাটকও তাহলে লেখা যায়! কতো খ্যাতি! কতো টাকা! কতো সম্মান! কোথা থেকে যেন জুটে গেলো ‘এজেন্ট’। বার্টন ভাসছেন হাওয়ায়। এবার?
‘এজেন্ট’ পরামর্শ দিলেন হলিউডে পাড়ি দিতে। একমাত্র হলিউডই দিতে পারে তাঁর যোগ্য মর্যাদা। প্রথম নাটক রাতারাতি আলোড়ন ফেলে দেওয়ার পর উচ্চাশাই তো স্বাভাবিক! এক টানে সোজা লস অ্যাঞ্জেলস। সেখানে এক স্টুডিও মালিকের বহুদিনের ইচ্ছা ছবি বানানোর এবং বার্টন হাজির হতেই তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হলো স্ক্রিপ্ট লেখার। কী হবে সেই স্ক্রিপ্টের উপজীব্য? না লিখতে হবে একেবারেই মোটা দাগের কুস্তি নিয়ে এক কাহিনী। তাও আবার হয় নাকি? এরজন্য এতোদূরে ছুটে আসা?অথচ প্রতিবাদ করার কোন উপায় নেই। চুক্তিতে লেখাই ছিলো,যে পরিমাণ টাকা চাইবেন তাই তুলে দেওয়া হবে, শর্ত শুধু একটাই যা বলা হবে তাই করতে হবে মুখ বুঁজে। মানসিক গ্লানিতে আক্রান্ত বার্টন হারিয়েই ফেললেন নিজেকে। হারিয়ে গেলো এক প্রতিভাধর নাট্যকারের জীবন!
ভাবছেন, এতো গৌরচন্দ্রিকা কেন? কী করা যাবে! ভারতবর্ষের মতো বুভুক্ষু দেশে কাঁড়ি কাঁড়ি সমস্যাকে সঙ্গে নিয়েও ক্রিকেট তো বহুদিন হলো ঢুকে পড়েছে শোয়ার ঘরে। ধোনি না যুবরাজ, কার গ্ল্যামার বেশি তা নিয়ে তর্কে বসে স্বামী-স্ত্রীর মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হওয়ার জোগাড়। শুতে ক্রিকেট, জাগতে ক্রিকেট। অফিসে মালিকের রক্তচক্ষু, তাও একটু সুযোগ পেলেই জেনে নেওয়া সৌরভ কী পারলো ওই ‘হতভাগা’ নির্বাচকদের ‘মুখতোড়’ জবাব দিতে? এতো রমরমা বাজারে রীতিমতো ভূ কম্পন জাগিয়ে ইণ্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ( আই পি এল) যা দেখিয়ে দিয়ে গেলো তারপর তো আগেকার সমস্ত ভাবনা একেবারে ধুয়েমুছে সাফ। বাপ রে বাপ! এই না হলে ক্রিকেট!অনেকে তো আবার শুরুতেই এতো বাড়বাড়ন্ত দেখেশুনে বলতে লেগেছেন,‘ইনভেস্ট অ্যান্ড প্রফিট লিগ’! ব্রিটিশ তথা ইউরোপের ফুটবলমহল একনও কথায় কথায় তুলে আনেন ‘বেক-ম্যানিয়া’র প্রসঙ্গ। এবার বলিউডি তারকা এবং ব্যবসাদারদের যৌথ উদ্যোগে জন্ম নেওয়া আই পি এল সেই জোয়ারকেও সম্ভবত স্তিমিত করে দিলো! মাইক মার্কুইজির মতো অতি খুঁতখুঁতে ব্যক্তিত্ব যাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলছেন,‘এই আই পি এল হলো মোবাইল ফোন চালু করার সেই ক্যাশ কার্ড যার ওপর লাগানো রুপালি প্রলেপকে ঘসে নম্বর লাগানো যেতে পারে কিন্তু তাকে আর ঝেড়ে ফেলা যাবে না’। এবং এটাই আজকের ‘শাইনিং ইন্ডিয়ার’ সেরা মুখ! ইউসুফ পাঠানের বলে বলে ছয় মারার ঘটনা ঠিক কতোজন গড়গড় করে বলে দিতে পারবেন সেই বিতর্কে গিয়ে লাভ নেই। তার চাইতে যদি প্রশ্ন ছোঁড়া যায় প্রীতি জিন্টা ঠিক কতোবার বিভিন্ন‘পোজে’ তাঁর দলের কোন্‌ ক্রিকেটারকে কীভাবে আলিঙ্গন করেছেন অথবা শাহরুখ খানের প্রতি ম্যাচে পরণের পোশাক কতোবার বদলেছে, উত্তর দেওয়ার জন্য এতো হাত উঠবে তা গুনতে গুনতেই ক্লান্তি চলে আসতে বাধ্য।বিশ্বায়িত দুনিয়ার ভাবনা তো এমনই। সমস্তরকম সমস্যাকে দূরে সরিয়ে বিনোদনের জোয়ারে গা ভাসিয়ে দেওয়ার মধ্যেই রয়েছে বেঁচে থাকার সার্থকতা, এবং সেই তথ্যকে সামনে এনেই আই পি এল অভিষেকেই সুপার হিট! এবং সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পর পড়ে থাকে একরাশ দাসত্বের ছবি যেখানে টাকা, স্রেফ টাকা দিয়েই তাবড় তারকার মুখে কুলুপ এঁটে দিয়ে খাটিয়ে নেওয়া গেলো নিজের মতো করে, যেমনটা হয়েছিলো বার্টনের!
...........................................................................................................
ফেব্রুয়ারি মাসে অ্যাডিলেডেতে খুব একটা বৃষ্টি হয় না কিন্তু তারপরেও প্রকৃতি যদি মনে করে জলবর্ষণ করবে, তাহলে কারই বা কিছু করণীয় থাকে! তেমনই এক বিকালে ভারতীয় ক্রিকেটের সেরা আইকন শচীন তেন্ডুলকার দৌড়াচ্ছিলেন নিজের মতো করে। ম্যাচ ফিটনেস ধররে রাখতে গেলে ওই দৌড় খুব জরুরী। কিন্তু ওনার পিছনে কে দৌড়াচ্ছেন? খবর নিয়ে দেখা গেছিলো ওই ব্যক্তি আসলে মুকেশ আম্বানি প্রেরিত দূত যাঁর কাজ ছিলো যে কোন মূল্যে শচীনকে রাজি করানো আই পি এল’য়ে খেলানো।
সেই ব্রিসবেন থেকে পিছু নেওয়া শুরু, ঘুরতে ঘুরতে মেলবোর্ন হয়ে ক্যানবেরা এবং সেখান থেকে অ্যাডিলেড। অবশেষে শচীনকে পাওয়া গেলো একান্তে। ওদিকে মুম্বাই থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে টেলিফোনে ভেসে আসছে মুকেশ আম্বানির গলা,‘কাজ কতোটা এগলো?’ এতো জিজ্ঞাসা নয়, ঘুরিয়ে হুঁশিয়ারির ঢঙে জানতে চাওয়া আর কতোদিন অস্ট্রেলিয়ায় পড়ে থাকতে হবে? আই পি এল’র নিলামের সময় এগিয়ে আসছে অথচ কাদেরকে কেনা হবে তার তালিকাই এখনও হাতে এসে পৌঁছালো না! শেষমেশ মিললো সম্মতি, হাতে এলো তালিকা। অ্যাডিলেড থেকে শচীন রিলায়েন্সের দূত মারফত জানিয়ে দিলেন কাদের জন্য কতোটা বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
কোন গল্পকথা নয়, এ হলো ভারতবর্ষের এক জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক পত্রিকার। আই পি এল গোটা ক্রিকেটীয় প্রথাকে ভেঙেচুরে দিয়ে এমন এক বিকৃত আকার দিয়েছে যার ভরকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ওই টাকার থলি। কার জন্য কতোটা ব্যয় করা যাবে মুদ্রা? মুনাফাসর্বস্বতায় বরাবরই ডুবে রয়েছে বাইশ গজের উইকেট, এবার তা কিছু ব্যবসাদার এবং কিছু জনপ্রিয় চিত্রতারকার সৌজন্যে এমন দৈত্যাকৃতি আকার নেবে তা চোখে না দেখলে অনুমান করার উপায় থাকতো না। আালাদা আলাদা আটটি দল যাদের মালিকও বিভিন্ন পরিমণ্ডল থেকে হাজির। অনেকটা সেই ইউরোপের ফুটবলের মতো অথবা আমেরিকার এন বি এন’র ধাঁচে তৈরি এক ভাবনার গায়ে লাগিয়ে দেওয়া হলো ব্যাট-বলের স্ট্যাম্প। খোলামেলা, হুড়মুড় করে ঘাড়ের ওপর এসে পড়া প্রাচুর্যে ভরা এক নিখাদ ব্যবসার তত্ত্ব। আলাদা মালিক, ক্রিকেটারদের ঝুলিতে ভরে নিতে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার থলি, বিজ্ঞাপনের টানা জোয়ার। টাকায় টাকা বাড়িয়ে নেওয়ার সেরা হাতিয়ার। আপনার যদি টাকা থাকে তাহলে তাকে পরিমাণে বাড়িয়ে নিতে পারেন অনায়াসে। বাজার দখল করার নতুন কায়দা। মুনাফা আর মুনাফার রাশি রাশি হিসাব। কোন ছুঁতমার্গ নেই!
বিশ্বায়িত দুনিয়ায় বাজারই বলে শেষ কথা। বাজারই শিখিয়ে দেয় কীভাবে, কোন পথে চলতে পারলে পাওয়া যেতে পারে মুনাফার উষ্ণতা। আই পি এল হলো সেই বাজারকে নিজের মতো করে শিখিয়ে পড়িয়ে নেওয়ার বিশাল বিচরণক্ষেত্র। ভারতীয় উপ মহাদেশে এই আই পি এল ধরেই নিয়ে আসা যায় নয়া বিপ্লব। এখানে সবার ঘুম ভাঙে আর চোখ বন্ধ হয় ওই ক্রিকেটের মালা জপতে, জপতে।এখানে চায়ের দোকানে লেগে যায় হাতাহাতি সৌরভ বনাম শচীনের রেষারেষির কাহিনী টানতে গিয়ে। মুহূর্তের ভিতর তৈরি হয়ে যায় নতুন সমর্থক, তৈরি হয়ে যায় নতুন উন্মাদনা। না হলে আর কীসের সাহসে ভর করে বিজয় মালিয়ার মতো আপাদমস্তক ব্যবসাদার রাতারাতি নিজের ইচ্ছায় ঘাড় ধরে বের করে দিতে পারেন প্রতিষ্ঠিত এক ধারাভাষ্যকারকে? সেই কবে যেন বলা হয়েছিলো,‘ক্রিকেট দ্য গ্লোরিয়াস আনসার্টেনটি’। না, এখন আর সেভাবে থাকার উপায় খোলা রইলো না। তার পরিবর্তে জায়গা করে নিলো,‘আমার দল, আমার টাকা, আমার জয়’। হার মানেই বিনিয়োগের চরম ক্ষতি, জিতলেই লাভের অঙ্ক গুনে নেওয়া দ্বিগুণ আকারে। মুনাফা ছাড়া বাকি সবিকছুর প্রবেশ প্রবলভাবে নিষিদ্ধ! এবং সবকিছুর ওপর শর্ত একটাই, মুখ বন্ধ করে দেখে যান কী হচ্ছে, কী হতে চলেছে। মুখ বন্ধ রাখার জন্যই না দেওয়া হচ্ছে এতো বিশাল অঙ্কের টাকা, তাও আবার বিদেশী মুদ্রায়। তারপর কথা কিসের?
...........................................................................................................
‘জানেন স্কিল এবং স্কোরবোর্ডকে বাদ দিলেও ক্রিকেটে রয়েছে এমনকিছু বিষয় যা এই খেলাটাকে আরো মোহময়ী করে তুলেছে। এক অদ্ভুত অবসর এবং শুদ্ধ বিনোদনের মেজাজ নিয়ে ক্রিকেট উপহার করে মানসিক প্রশান্তি। এক সুন্দর, হাল্কা তরঙ্গে ভেসে আসা সঙ্গীতের মতো যা ধীরে ধীরে সারাটা মন এবং শরীরকে ভরিয়ে দেয় অপার্থিব পরশে ঠিক যেমন আামার কাউন্টি ল্যাঙ্কাশায়ার খেলতো ক্রিকেট। অনেকেই হয়তো জানেন না তাই আজ চুপিচুপি সেই কথাটা বলে দেওয়া ভালো। এমনই এক মৃদুমন্থর ল্যাঙ্কাশায়ার দলের ব্যাটিং ইনিংসের ফাঁকে আমি সেরেছিলাম বিয়ে। কেন না জানতাম ওই কাজ সারার পরও মাঠে হাজির হলে দেখতে পাবো নিজের দলকে ব্যাট হাতে। ক্রিকেট সেই মসৃণতায় ভরা মাধুর্যে আজও সবার সেরা’।
এও কোন বানানো কথা নয়। বিশ্বক্রিকেট এখনও তাঁকে সম্মান জানাতে গিয়ে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করে না। সেই ব্যক্তিত্বের নাম নেভিল কার্ডাস। ধারাভাষ্যের পাশাপাশি ক্রিকেটীয় অসাধারণ সব নিবন্ধের গর্বিত লেখক এভাবএই ব্যক্ত করেছিলেন নিজস্ব আবেগকে। এখন অবশ্য তা নিয়ে ভাবতে গেলেও অবাক লাগে। মনে হয় কার্ডাস আদপে একজন আহাম্মকই ছিলেন! প্রতিমুহূর্তে চমক এবং প্রতিমুহূর্তে বিনিয়োগের দাঁড়িপাল্লায় যার তুল্যমূল্য বিচার করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হয় সেখানে ওই অলসতা মাখানো ক্রিকেটীয় রোমান্টিকতার স্থান কোথায়? নতুনদের নিয়ে বিপুল উৎসাহ, পুরানো হয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে হরেক কাহিনী যাকে ‘ফোর্বস’ পত্রিকা ( জুলাই ২০০৮ সংখ্যা) বলছে,‘আবেগকে পুরোদস্তুর বিসর্জন দেওয়ার সময় আগত। এটা হলো গিয়ে বহজাতিকদের অবাধ মৃগয়াক্ষেত্র। যতো খুশি টাকা ঢালো, তুলে নাও কড়ায় গন্ডায় মুনাফার কড়ি। বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সমান্তরাল এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে এই বহুজাতিকরা তৈরি করে দিয়েছে এমন এক অর্থনীতি তার তল পাওয়া ভার অথচ তাই নির্ণয় করে দিচ্ছে ভবিষ্যৎ। এখন প্রতি সপ্তাহে কারুর দাম বাড়ে, কারুর আবার কমে।’ আর সেটাই এই প্রথমবার ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরে ধ্বনিত হলো সাড়ম্বরে। বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে একবার শুনে নিন ‘ওরা’ কী বলছেন!
শাহরুখ খান: ক্রিকেট নিয়ে যে বিরাট কিছু জানি তা আদৌ বলতে যাবো না।ওটা নিয়ে খুব একটা জ্ঞানও আমার নেই, খেলা ভালোবাসি এবং তারই টানে এই বিনিয়োগ। এও অস্বীকার করবো না ভারতীয় আর্থ-সামাজিক কাঠামোয় ক্রিকেট এমন এক শক্তপোক্ত জায়গা করে নিয়েছে যেখানে বিনিয়োগ করলে তার পুরোটাই উঠে আসসবে দ্বিগুণ আকারে।একটা বছর টাকা ঢালবো এবং তারপরেই সিদ্ধান্ত নেবো পরের বছর আমার কর্মপদ্ধতি কী দাঁড়াবে!
প্রীতি জিন্টা: ওটা আমার জানার আওতায় কোনদিনই ছিলো না। একবার আবদার করেছিলাম নেস ওয়াদিয়ার কাছে, এমনকিছু একটা উপহার দিতে যা কীনা বিশেষত্ব এবং মুনাফায় ভাসিয়ে দিয়ে যাবে সবকিছু। তো ওই বেছে দিলো এই ক্রিকেটকে। সত্যি বলতে, ক্রিকেট সম্পর্কে আমার জ্ঞানের বহর যদি জানতে চান তাহলে বলতেই হবে ওই চার এবং ছয় ছাড়া অন্যকিছুই আমার জানা নেই। মুনাফার দিকে নজর তো থাকবেই পাশাপাশি প্রচারের বাড়বাড়ন্তকে অস্বীকার করি কীভাবে! ওটাই আমাদের বেঁচে থাকার প্রধান হাতিয়ার এবং যারাই খেলবে আমার দলের হয়ে তাদেরকেও সাফ জানিয়ে দেবো, এই যে এতো টাকা লাগালাম তাকে আবার ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে ওদেরকেই। সেটা না হলে আর কিসের ক্রিকেট!
বিজয় মালিয়া: আমি চিরকালের ব্যবসাদার, বাজারের হালহকিকত বুঝে নিয়ে টাকা খাটিয়ে মুনাফা তোলাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। সুতরাং ক্রিকেটে যখন এভাবে টাকা খাটানোর সুযোগ এসেছে তখন হাত গুটিয়ে বসে থাকার প্রয়োজনই পড়ে না। মনে রাখবেন, টাকায় বাড়ে টাকা এবং সেই মন্ত্রে ভর করেই আমার এখানে আসা।
মুকেশ আম্বানি: মুম্বাই আমার প্রাণ এবং তারজন্য যদি বিনিয়োগ করে কিছু লাভ পাওয়া যায় তাহলে কেন নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখবো? টাকা লাগাবো, লোককে আনন্দ দেবো এবং তার হাত ধরে সুদে-আসলে তুলে নেবো লভ্যাংশের ভাগ। এখানে লজ্জার কী আছে!
তাহলে মোদ্দা ব্যাপার কী দাঁড়ালো? যারা কীনা রাতারাতি শচীন, সৌরভ, ধোনিদের নিলামের দাঁড়িপাল্লায় তুলে দিয়ে বেঁধে দিলো বাজারদর, তারা শুধুই বোঝে মুনাফা।কখনও ক্রিকেট, কখনও বা উষ্ণ পানীয়, আবার কখনও তার আকার রিয়াল এস্টেট! ভারতবর্ষের মতো দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়ে রক্তচাপ বাড়ার থেকেও দ্রুতগতিতে, অভাবের তাড়নায় খেটে খাওবা কৃষক বেছে নেন আত্মহত্যার পথ। জাতপাতের ধুয়ো তুলে এক প্রদেশের মানুষজনকে ভিটেছাড়া করা হয় অবলীলায় আর তখনই বারো কোটি টাকার মূল্যের আকাশছোঁয়া ক্রিকেটের আয়োজন হয় কীভাবে? কোথা থেকে আআসে এতো পুঁজি? কিসের ভিত্তিতে ধোনির বাজারদর দাঁড়ায় ছ’কোটি? সবাই সব জানেন এবং তা জানেন বলেই মুখ ঘুরিয়ে বলেন অন্য কথা।
........................................................................................................
‘যদি ক্রিকেট খেলাটাকে ভালোবেসে থাকেন তাহলে দয়া করে তার সততা বজায় রাখার চেষ্টাও করবেন’। বাইশ গজের উইকেটের এ এক অতি পরিচিত এবং বহু প্রচলিত প্রবাদ। কথা হলো কে ভালোবাসেন? কাদেরই বা ‘সততা’ বজায় রাখার জন্য আহ্বান করা হচ্ছে? তাছাড়া আচমকা সততা বজায় রাখার প্রশ্নই বা উঠছে কেন? সত্যি বলতে, ওই প্রবাদ ধরে এগোতে থাকলে এভাবেই রাশি রাশি প্রশ্ন উঠে আসবে। আসতে বাধ্য এবং এও জেনে রাখবেন তার অধিকাংশেরই কোন জবাব নেই। বলা ভালো, কেউ তার জবাব দিতেই রাজি নন। এক অদ্ভুত উদাসীনতা ( পড়ুন অত্যন্ত সচেতনভাবে তাকে এড়িয়ে যাওয়া) নিয়ে প্রত্যেকে সবকিছু সোনেন তারপর নীরবে স্থানত্যাগ করে যান। কড়ি দেবো, বদলে মাখবো তেল, এটাই তো যুগ যুগ ধরে আকার নিয়েছে শাশ্বত সত্যের, ততবে কেন বাবা আজ ওই ‘সততা’ নামক শব্দকে হাজির করে বিড়ম্বনায় ফেলার প্রয়াস?
বহু আড়ম্বরে পালিত হয়ে গেলো ডন ব্র্যাডম্যানের জন্মশতবর্ষ কিন্তু সেটাই কী সব? ইন্টারনেট ঘাঁটতে ঘাঁটতে চোখে পড়লো এক বিচিত্র তথ্য। কুটামুন্দ্রার নীরব কুটিরে বসে জীবনের শেষ কটাদিন কাটানোর ফাঁকেই জীবনকে নিয়ে ভাবতে বসেছিলেন ডন। কী দিলেন! কীই বা পেলেন তার পরিবর্তে? বিশ্বক্রিকেটের অবিসংবাদী ব্যক্তিত্বকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, ক্রিকেট কী দিলো আপনাকে? ডনের জবাব ছিলো এমন,‘আজ এই নীরবতায় বসে থাকতে থাকতে এটা ভেবে দারুণ লাগে এমন এক অধ্যায়ের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত রাখতে পারলাম যা কীনা সোনার চেয়েও অমূল্য। এক দুষ্প্রাপ্য স্মৃতি। এই ক্রিকেটেই ঘটলো ম্যাচ গড়াপেটার ঘটনা আবার এখানেই তো তৈরি হয়েছে এমনসব ইতিহাস যার কোনদিন কোন তুলনাই চলবে না। সেটাই কী কম পাওয়া হলো’! বেঁচে থাকলে আজ ডন কী পারতেন তেমনই এক যুক্তিতে অনড় থাকতে?
পাঠক বলবেন, কী দরকার রয়েছে এতো প্যাঁচ পয়জারের। এমনিতেই সমস্যায় জেরবার জীবন। চারপাশ জোড়া শুধু নেই আর নেই। সেখানে ওই একটু বিনোদনই তো পারে শান্তির প্রলেপ দিতে? নিশ্চয়ই, আপনি তা অনায়াসে বলতে পারেন। বলার পুরো হক রয়েছে আপনার কিন্তু বন্ধু তারই ফাঁকে একটু ভেবেও দেখবেন যা দেখলেন অথবা যা উপভোগ করলেন বলে গলা ফাটালেন তা কী নিছকই বিনোদন নাকি তার ভিতরে রয়েছে আরেক বাজারি ভয়ঙ্কর তত্ত্ব। ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় বহু অভিনবত্বের অন্যতম হলো দর্শকদের মনোরঞ্জন। যা খেলা হচ্ছে তা আদৌ বিনোদনমূলক কীনা তা জানার থেকে বাড়তি নজর দেওয়া হয়ে থাকে উপস্থিত দর্শক সংখ্যার ওপর। ওই ‘চিয়ারলিডার’দের কথাই ভাবা যাক। মাঠে খেলা হবে তারজন্য আলাদা করে স্বল্পবাস মহিলাদের উদ্দাম নৃত্যের কী প্রয়োজন পড়ে? কেউ বা স্বদেশীয়, কেউ আবার বিদেশ থেকে বহু টাকা খরচ করে তাদেরকে তুলে এনেছেন শুধুমাত্র দর্শকদের মন যোগাতে। ওরা নাচবেন, ওরা শরীরী ভাষায় হাজারো ভঙ্গিমা হাজির করে উত্তেজনার পারদকে বাড়িয়ে দেবেন দ্রুত হারে। সত্যি বলতে, আই পি এল যা দেখিয়ে দিয়ে গেলো তা সবদিক থেকেই নিপুণ এক পরিকল্পনার প্রকাশ। বুঁদ হয়ে যেতে হবে রাশি রাশি টাকার উড়ে যাওয়ার ছবি দেখতে দেখতে। তাই হয়েও গেলো ভারতীয় জনগণ। নিমেষে উড়ে গেলো আমজনতার পকেট থেকে মুঠো মুঠো পয়সা। মুখে রঙ, চোখে মাদকতার ছোঁয়া। আসলে ব্যবসার শর্তই তো ছিলো তাই। ক্রিকেটটা যেমনই হোক না কেন, সর্বদা এটা যেন মাথায় থাকে যারা বিনিয়োগ করছেন তারা যেন কখনোই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এবং পরিশেষে হিসাব কষে দেখা গেছে তাই-ই হয়েছে, বরঞ্চ যা ভাবা গেছিলো তার তুলনায় মুনাফার পরিমাণ তার তুলনায় অনেক বেশি। বাজারের চাহিদাই ছিলো এমনতরো। ইউরোপিয়ান ফুটবল পরিমণ্ডলের হাওয়া গায়ে লাগিয়ে ব্যক্তি মালিকানার অবাধ প্রবেশ এবং তার হাত ধরে উন্মুক্ত মুক্ত বাণিজ্যের পথ। বদলে গেলো ক্রিকেটের প্রথাগত ঘরানা, রুচি এবং রোজগার। সেখঅনে রোমান্টিকতা বলে আলাদাকিছুকে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার অবকাশ রইলো না!
......................................................................................
আসুন দেখে ফেলা যাক কিছু অঙ্কের ধাঁধা।
৪৫ দিনে মোট ম্যাচ ৫৯। আট দলের লড়াই, প্রতিটি দল একে অপরের সঙ্গে খেলবে দু’বার করে। সেরা চার দল যাবে সেমিফাইনালে। মোট পুরস্কার মূল্য ১২ কোটি টাকা।
টাকার খেলা
মোট পুরস্কার মূল্য ১২ কোটি টাকা। বিজয়ী দল পাবে ৪.৮ কোটি টাকা, রানার্স পাবে ২.৪ কোটি টাকা।শেষ চারে উঠলেই ১.২ কোটি টাকা নিশ্চিত। পরবর্তী চারটি স্থানের দলের জন্য বরাদ্দ যথাক্রমে ৮০ লাখ, ৭০ লাখ, ৫০ লাখ এবং ৪০ লাখ টাকা। প্রতিযোগিতার সেরা পাবেন ১০ লাখ টাকা।
সেরা পাঁচ দামী ক্রিকেটার
মাহীন্দ্র সিং ধোনি, চেন্নাই, ৬ কোটি টাকা। অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস, হায়দরাবাদ, ৫.৪ কোটি টাকা। সনথ জয়সূর্য, মুম্বাই, ৩.৯ কোটি টাকা। ইশান্ত শর্মা, কলকাতা, ৩.৮ কোটি টাকা। ইরফান পাঠান, মোহালি, ৩.৭ কোটি টাকা।
আট দলের মালিকানা এবং অর্থমূল্য
চেন্নাই সুপার কিঙস, ইন্ডিয়া সিমেন্ট লিমিটেড, ৩৬৪ কোটি টাকা। বাঙ্গালোর রয়াল চ্যালেঞ্জার্স, বিজয় মালিয়া/ইউ বি গ্রুপ, ৪৪৬ কোটি টাকা। মুম্বাই ইন্ডিয়ানস, মুকেশ আম্বানি/রিলায়েন্স গ্রুপ, ৪৪৮ কোটি টাকা। কলকাতা নাইট রাইডার্স, শাহরুখ খান/ রেড চিলিজ ইন্ডাস্ট্রিজ, ৩০০ কোটি টাকা। কিঙস ইলেভেন পাঞ্জাব, নেস ওয়াদিয়া-প্রীতি জিন্টা-করণ পল-মোহিত বর্ধন, ৩০০ কোটি টাকা। হায়দরাবাদ ডেকান চার্জারস, ডেকান ক্রনিকল, ৪২৮ কোটি টাকা। দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, জি এম আর স্পোর্টস, ৩৩৬ কোটি টাকা।রাজস্থান রয়ালস, এমার্জিং মিডিয়া, ২৬৮ কোটি টাকা।
আসর শেষে মুনাফা
কলকাতা নাইট রাইডার্স: নিট মুনাফার পরিমাণ ৮ কোটি টাকা।
রাজস্থান রয়ালস: নিট মুনাফার পরিমাণ ৫ কোটি টাকা।
কিঙস ইলেভেন পাঞ্জাব: নিট লোকসান ৩.৪ কোটি টাকা।
চেন্নাই সুপার কিঙস: নিট লোকসান ৪ কোটি টাকা।
দিল্লি ডেয়ারডেভিলস: নিট লোকসান ৮ কোটি টাকা।
ডেকান চার্জারস: নিট লোকসান ২০ কোটি টাকা।
মুম্বাই ইন্ডিয়ানস: নটি লোকসান ২১ কোটি টাকা।
বাঙ্গালোর রয়াল চ্যালেঞ্জার্স: নিট লোকসান ৪৫ কোটি টাকা।
ভাবা যায়, একশো দশ কোটি জনসংখ্যা ছাড়িয়ে যাওয়া একটা দেশে নিছক বিনোদনের চেহারা এমন বিশালাকায়!স্বাধীনতার পরে পরেই প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু নাকি বলেছিলেন কালোবাজারীদের ধরে ধরে ঝুলিয়ে দেবেন লাইটপোস্টে! দেখতে দেখতে স্বাধীনতার বয়স ষাট পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কিছু হলো না।স্বাধীন দেশে লাইটপোস্টের সংখ্যা প্রচুর পরিমাণে বাড়লেও সেখানে জায়গা তো হলো না কোন কালোবাজারীর। দিন-রাত দেখার পরেও তো চিহ্নিত করা গেলো না কারা রাতারাতি গড়ে তুলেছেন সমান্তরাল সাম্রাজ্য! খোলা বাজারে সবাই চলনসই, সবই চলে চাহিদার খিদে মেটাতে।ক্রিকেটকে ঘাটে তুলে দিয়ে তারই চিতার ওপর বিপুল আয়োজন বিপাশা, ঋত্বিক অথবা নয়নতারাদের মতো সুন্দর কিছু মুখের সারি। রাগী যুবক অক্ষয় কুমার হাতে ব্যাট নিয়ে অত্যাধুনিক আলো-আঁধারিতে এমন কসরত শুরু করলেন, দেখলে মনে হবে যেন পার্থের গনগনে উইকেটে বেদম প্রহার করছেন ম্যাকগ্রথ, লি’দের! প্রশন ছুঁড়ে দিলে জবাবও তৈরি,‘আমি তো সেই কবে থেকে ক্রিকেটর ভক্ত। তাছাড়া দিল্লির দল খেলবে আর আমি কীনা তাদের পাশে এসে দাঁড়াবো না!’ কী অপার প্রেম!
আবার সর্বাঙ্গ দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে ঋত্বিক রোশন বলে উঠলেন,‘দুনিয়া হিলা দেঙ্গে’।পাশে ছোট্ট এক ছেলে। এ কোন ছেলে? সেই ছেলেটা না যে কীনা বন্ধুর নতুন গাড়িতে করে বাড়ি ফেরে বেজার মুখে। ছোট্ট মুখের একরাশ হতাশাকে দেখে বাবা পরদিনই ছোটেন ‘শো-রুমে’ নতুন গাড়ি কিনতে এবং কোথায় যেন নিমেষে তৈরি হয়ে যায় এক দুর্বোধ্য চাহিদা! সেই ছেলেটা না যার রাগ ভাঙাতে মা’কে ছুটতে হয় ঝাঁ-চকচকে খেলনার দোকানে যেখানে থরে থরে সাজানো টেলিভিসনের সারি। দোকানের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা ঠাণ্ডা হাওয়া নিমেষে দূর করে দেয় যাবতীয় গ্লানি। নাকি ওই ছোট্ট মুখে লুকিয়ে একমুঠো ভাত না পাওয়ার অব্যক্ত বেদনা,‘আশ্চর্য ভাতের গন্ধ রাতের আকাশে,/কারা যেন আজো ভাত রাঁধে, ভাত বাড়ে, ভাত খায়।/আর আমরা জেগে থাকি আশ্চর্য ভাতের গন্ধে/ প্রার্থনায় সারা রাত’। কোন ছেলেকে দেখবো? আমরা আসলে কার মুখ খুঁজি বলুন তো!
সত্যি বলতে, আই পি এল তো ব্যবসা করে নিলো দুটো মূলসূত্রের ওপর দাঁড়িয়ে। একদিকে থাকবে বিপুল পরিমাণ বিজ্ঞাপনের প্রয়োগ ঘটিয়ে মুনাফার জায়গা করে রাখা, অন্যদিকে টিকিট বিক্রি করে বাকি লভ্যাংশ ঘরে তুলে নিয়ে যাওয়া। বহুদন আগে এই তত্ত্বই তো আমাদের দেখিয়েছিলেন পল সুইজি এবং ব্যারন। একচেটিয়া পুঁজিবাদ নিজেই তৈরি করে নেয় সামাজিক এক চাহিদা এবং নিজেই তা পূরণ করার ব্যবস্থাও করে দেয়।আপাতদৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে সবকিছুই তো ভালো চলছে অথচ ঘটনা আদৌ তা নয়।ভাবনাকে রাতারাতি অন্য এক জায়গায় প্রতিস্থাপন করে দেওয়ার খেলা চলতে থাকে সেই একচেটিয়া পুঁজিবাদের হাত ধরে। তৈরি হয়েছে জনসমর্থনের আলাদা আলাদা ক্ষেত্র, বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ গলা ফাটাচ্ছেন তাদের দলের হয়ে। কাদের দল? আমজনতা নাকি শাহরুখ-প্রীতির টাকায় কেনা বিজ্ঞাপনী প্রচারের? মিশে যাচ্ছে সংকীর্ণ এক আবেগ এবং তারই নির্যাসে জারিত হয়ে তৈরি হচ্ছে বিচিত্র এক আনুগত্যবোধ! বরঞ্চ আই পি এল এমনই এক খোলামেলা বিষয় যেখানে বিনিয়োগ এবং মুনাফার মধ্যে নেই কোন ছুঁতমার্গ। ভারতবর্ষের মতো দেশে নড়বড়ে আর্থ সামাজিক কাঠামোর ভিতর দাঁড়িয়ে থাকা বিভিন্ন স্তর থেকে উঠে আসা মানুষের মধ্যে ক্রিকেটর বাজারি চেহারাকে আরো একটু গভীরভাবে প্রোথিত করে দেওয়ার সেরা উপায় এই আই পি এল।
আর এটাই হলো বিশ্বক্রীড়ার কল্পজগতের সঙ্গে বাস্তবতার যথার্থ মিশ্রণ যেখানে বাজারের চাহিদাই এই নতুন তত্ত্বকে পরিণত করে দিলো দুরন্ত এক পরীক্ষার উপাদানে। ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া কিছু মানুষের ইচ্ছা যে কী ভয়ঙ্কর আকার নিয়ে সবাইকে গিলে নিতে পারে, তা কী এই খেলা চালু না হলে অনুভব করা যেতো?বিবেক, বুদ্ধিকে বিসর্জন দিয়ে রঙিন আলোর নিচে অর্ধনগ্ন নারীদেহের বিভঙ্গরেখার স্বাদ নেওয়ারও তো আলাদা এক তৃপ্তি রয়েছে। প্রতি বলেই তো এখন মুনাফা। আপনার ইচ্ছা হোক বা নাই হোক শামিল হতে হবেই।
‘হোয়াট অ্যান আইডিয়া সারজী!’

No comments:

Post a Comment